জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধান: পাথরঘাটার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ।
ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ তানভীর
বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে জেলে, মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার ও ছোট জাহাজের মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এক সাংবাদিক জেলের ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী নৌযান থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ না দিলে মামলা, হয়রানি কিংবা নৌযান আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সাংবাদিক জেলের পরিচয়ে এএসআই মো. কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মোবাইল ফোনে অর্থ দাবি করা হয়। পরে বিকাশে টাকা পাঠানোর পর আরও টাকা নিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলা হয়। পরদিন নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তার হাতে টাকা দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ধারণকৃত কথোপকথনে আদায়কৃত অর্থের ভাগ-বণ্টন সম্পর্কেও বিভিন্ন বক্তব্য উঠে আসে বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী (গজ গভীর) মিয়া বলেন, “এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এএসআই মো. কবির বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অভিযোগের বিষয়েও কিছু জানি না।”
বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হবে।
মন্তব্য
0টি মন্তব্যআপনার মন্তব্য লিখুন